ইসলামী বিধান : প্রশ্ন-উত্তর

0
147

কবর জিয়ারতের নিয়ম

প্রশ্ন : আমার অনেক দিনের সমস্যা কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়ম নিয়ে। যদিও অনেকের কাছে জানতে চাইলে দেখি ভেদাভেদ রয়েছে। তাই কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়ম দিলে উপকৃত হব।

সাব্বির হোসাইন, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম ।

উত্তর : কবর জিয়ারতের সুন্নত পদ্ধতি হলো কবরস্থানে গিয়ে এভাবে সালাম দেবে—‘আসসালামু আলাইকুম দারা কওমিম মুমিনিন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন, ওয়া নাসআলুল্লাহা লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ।’

তারপর সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তির পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে তার মুখোমুখি হয়ে যতটুকু সম্ভব কোরআন তিলাওয়াত করবে। উল্লেখ্য, ইসালে সওয়াবের জন্য হাত উঠিয়ে দোয়া করা জরুরি নয়, তা সত্ত্বেও কেউ মুনাজাত করতে চাইলে কিবলামুখী হয়ে করবে, যাতে কবরবাসীর কাছে কিছু চাওয়া হচ্ছে বলে ধারণা না হয়। (আসসুনানুল কুবরা : ৭/৪৪৯, তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৫)

মসজিদ থেকে ২০ হাত দূরে ইক্তিদা করা

প্রশ্ন : মুসল্লি ও মসজিদ থেকে ২০-২৫ হাত দূর, যেখান থেকে জুমার নামাজের ইমাম সাহেবের আওয়াজ মাইকের মাধ্যমে শোনা যায়—এমন স্থান থেকে ইক্তিদা শুদ্ধ হবে কি না? উল্লেখ্য, ওই ২০-২৫ হাত জায়গার মধ্যে মসজিদের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই। বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

শরীফ, মাদারীপুর।

উত্তর : ইমাম ও মুক্তাদিদের মাঝে দুই কাতার পরিমাণ বা তার বেশি জায়গা খালি থাকলে ইক্তিদা শুদ্ধ হয় না। তাই প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে ইক্তিদা শুদ্ধ হবে না। (আদদুররুল মুখতার : ১/৫৮৬, মাসায়েলে নামাজে জুমা পৃ: ২৫২)

স্বামী সন্তান নিতে আগ্রহী না হলে

প্রশ্ন : আমার বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর; কিন্তু আমার স্বামী বাচ্চা নিতে আগ্রহী না। তিনি শুরু থেকে আমাকে বলেছেন, তার ভাই-বোনের যত্ন নিতে, তারা প্রতিষ্ঠিত হলে দেখা যাবে। এখন তার ভাই-বোনও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি এখনো বাচ্চা নিতে আগ্রহী না। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইসলাম ধর্মে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা আছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রংপুর।

উত্তর : ইসলাম বিয়েকে পবিত্র পন্থায় বংশ বিস্তারের মাধ্যম বানিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক সন্তান গ্রহণকারিণী নারীকে বিয়ে করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই ইসলামসম্মত কোনো কারণ ছাড়া সন্তান কম নেওয়া বা একেবারে না নেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। আর সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হক রয়েছে। তাই প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার স্বামী সন্তান নিতে অনাগ্রহী হওয়া আপনার হক বিনষ্টের শামিল, পাশাপাশি ইসলামেরও অবাধ্যতা। অতএব যথাসম্ভব তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। তার পরও সম্ভব না হলে প্রয়োজনে অভিভাবকদের সহযোগিতা নিতে পারেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৫, আসসুনানুল কুবরা : ৭/২৩১, হেদায়া : ২/৩৪২, রদ্দুল মুহতার : ৩/১৭৫, কিফায়াতুল মুফতি : ১২/৪৩২)

মসজিদে দ্বিতীয় জামাত

প্রশ্ন: মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করার বিধান কী? ইমাম-মুয়াজ্জিন নির্ধারিত থাকা না থাকার ক্ষেত্রে মাসআলা বা হুকুমের মধ্যে কোনো পার্থক্য হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মুহাম্মদ মিরাজুদ্দীন আব্দুল্লাহপুর, সদর, যশোর।

উত্তর : ইমাম-মুয়াজ্জিন নির্দিষ্ট আছে—এমন মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ে জামাত আদায় হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার জামাত করা মাকরুহ। নির্দিষ্ট ইমাম-মুয়াজ্জিন না থাকলে মাকরুহ হবে না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ১/৫৫৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৭/১১৯, এমদাদুল ফাতাওয়া : ১/৩৬৯, কিফায়াতুল মুফতি : ৩/১৪৪)

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here