ইসলামী জীবনঃ প্রশ্ন-উত্তর

0
106

মেপে দেওয়ার পর ক্রেতা অভিযোগ করলে

প্রশ্ন : আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। আমি সব সময় কাস্টমারের সামনে কাপড় মেপে হাতে তুলে দিই। কিন্তু মাঝেমধ্যে কাস্টমার এসে অভিযোগ করে যে সে মাপে কম পেয়েছে। যেমন আমি ১০০ কেজি কাপড় ক্রেতার সামনে মেপে তাকে বুঝিয়ে দিলাম, পরবর্তী সময়ে সে এসে বলল যে আমি ৯৯ কেজি পেয়েছি। অথচ আমি তার সামনেই ১০০ কেজি মেপে দিয়েছিলাম। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

নাসিরুদ্দীন, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : আপনি যদি ক্রেতাকে পরিপূর্ণ বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন এবং ক্রেতা পরিপূর্ণ বুঝে নেওয়ার কথা স্বীকারও করে অথবা কমতি হওয়ার বিষয়টি ক্রেতার হস্তগত হওয়ার পরে সংঘটিত হয়, তবে আপনি ক্ষতি পূরণ দিতে বাধ্য নন। সর্বাবস্থায় বিক্রেতার জন্য উচিত পণ্য অন্যত্র বিক্রি করার পর পরিপূর্ণ মাপ বুঝিয়ে দেওয়া এবং ক্রেতাকে তা ভালো করে বুঝে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া। পরে কোনো বেশকমের জন্য বিক্রেতা দায়ী থাকবে না বলে স্পষ্ট বলে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে বেচাকেনা পরিপূর্ণ হওয়ার পর কম হওয়ার দাবি পূরণ করা বিক্রেতার জন্য জরুরি নয়। (আল-বাহরুর রায়িক : ৬/১০২, আদ্দুররুল মুখতার : ৫/৩৬)

 

সালাতুত তাসবিহতে জোরে তাসবিহ পড়লে

প্রশ্ন : সালাতুত তাসবিহের তাসবিহগুলো সশব্দে পড়ে ফেললে নামাজ আদায় হবে? কেউ এমন করে ফেললে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

একাব্বর আলী, খুলনা।

উত্তর : নামাজের মধ্যে তাসবিহ নিঃশব্দে পড়া সুন্নত। আর সুন্নত ছেড়ে দেওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না, তাই সশব্দে তাসবিহ পড়ার কারণে নামাজ নষ্ট হয়নি। (রদ্দুল মুহতার : ২/৮০, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ৩/২৩)

 

জরিমানার টাকা মসজিদে দেওয়া

প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় বিচারক মুরব্বিদের একটা আইন আছে যে বিচার যা হওয়ার পরে হবে, প্রথমে উভয় পক্ষ (অর্থাৎ বাদী-বিবাদী) কে পাঁচ হাজার করে টাকা জমা দিতে হবে। তবে এটা নেওয়া হয় ভীতি প্রদর্শনের জন্য—কেন তারা এরূপ মারামারি বা গণ্ডগোল করল! এখন আমার প্রশ্ন হলো, ওই টাকা নিয়ে তাদের খাওয়া জায়েজ হবে কি? অথবা মসজিদ-মাদরাসার কোনো কাজ তথা বাথরুম ইত্যাদি বানানো বৈধ হবে কি না?

মাও. মোস্তফা কামাল, ধুনট, বগুড়া।

উত্তর : ভয় দেখানোর জন্য যে টাকা বিচারকরা নিয়ে থাকে ওই টাকা বিচারকরাও খেতে পারবে না। কোনো ফকির-মিসকিনকেও দিতে পারবে না এবং কোনো মসজিদ-মাদরাসাতেও দেওয়া যাবে না; বরং যাদের কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছে তাদেরই ফেরত দিয়ে দিতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ১২/২৫৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৪/১৩৫)

 

মসজিদের সম্পদ আত্মসাৎকারীর শাস্তি

প্রশ্ন : মসজিদের সম্পদ আত্মসাৎকারীর দুনিয়া ও পরকালে শাস্তি কী হবে?

রেদওয়ানুল বারি, বজরা, নোয়াখালী।

উত্তর : মসজিদের সম্পদ আত্মসাৎকারী কঠিন গুনাহগার হবে এবং তাওবা করে মসজিদের আত্মসাত্কৃত সম্পদ ফেরত না দিলে আখিরাতে আজাবের সম্মুখীন হবে। এলাকাবাসী তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে দেবে এবং প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। (আদ্দুররুল মুখতার : ৪/৩৮০)

 

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here