২৩ দিনের আল্টিমেটাম : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের

0
102

আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।

বুধবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা চলাকালীন শেরাটন ক্রসিংয়ে পুলিশের ব্যারিকেডে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন এবং শাহবাগ মোড়ে তিন দফা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পদযাত্রাটি শেরাটন মোড়ে এসে পৌঁছালে পুনরায় পুলিশের ব্যারিকেডের মধ্যে পড়ে। এ সময় ব্যারিকেডের ভেতরেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে পদযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, ফারুক হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ, ভাসানি অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্রচিন্তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম,রাখাল রাহাসহ আরও অনেকে সেখানে অবস্থান করছিলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা করিনি। আমরা বলছি, বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছেন— ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’, আমাদেরও দাবায়ে রাখতে পারবেন না। আমরা দেশে শৃঙ্খলা চাই, ন্যায়নীতি চাই।’’

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তানও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মধ্যে পড়তে পারে। আপনারা আপনাদের যথাযথ শ্রমের মর্যাদা পান না। আজকে জনগণের পক্ষে আপনাদেরকেও থাকতে হবে। আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা চাই না— আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলতে চাই, আপনাদের কথা বলতে চাই, আমাদের কথা বলতে চাই। আপনাদের কাছে হয়তো নির্দেশ আছে তাই এখানে আটকে দিয়েছেন। আমাদের সবাইকে যেতে না দেন, অন্তত ২০ জনের একটি দলকে যেতে দিন।’

নুরুল হক নুর বলেন, ‘আজকে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনারা কি একবার চিন্তা করেছেন, কেন আজকে মানুষ আপনাদের ঘৃণা করছে। পুলিশকে সরকার তাদের গোলাম বাহিনী বানিয়েছে। আপনারা জনগণের কাতারে এসে দাঁড়ান, জনগণের জন্য কাজ করুন। আমরা আপনাদের জন্য জীবন দেবো। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আজকের এই কর্মসূচি পদযাত্রা। আজকে আমরা আপনাদের সঙ্গে মারামারি করবো না। আমরা সেদিনই লড়াই করবো, যেদিন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে।’

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই পদযাত্রা আজকে এখানে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা দিতে চাই— এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে নাগরিকদের মৌলিক বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে, এটি গদি রক্ষার নামে কাজে লাগানো হচ্ছে। জামিন একটি আইনি অধিকার। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কার্টুন আঁকার দায়ে তারা জামিন পাচ্ছে না। আমরা পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই— আমরা আজকে পদযাত্রা করতে এসেছি, আজকে আমাদের আটকিয়েছেন।আমরা বাঁধা ভাঙছি না। ২৬ মার্চের মধ্যে যদি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল না হয়, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করবো। সেদিন আমরা ব্যারিকেড ভাঙবো, অতিক্রম করবো। ২৬ তারিখের মধ্যে এই আইন বাতিল করেন, না-হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান বিশিষ্টজনেরা। এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন লিখিত বার্তায় এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বেলা’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, লেখক ও প্রাবন্ধিক অরূপ রাহী, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল আলম ভুঁইয়া, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here